———

একুশে ফেব্রুয়ারি:

স্বদেশী চেতনার অনন্ত উৎস

বজলুল করিম বাহার

 

কেউ কেউ অতি প্রগতির কথা বলে ইংরেজির প্রতি প্রয়োজনের বেশি মোহাবিষ্ট হচ্ছে। কেউ ধর্ম ও পেশাজীবিতার কথা বলে আরবীকে প্রাধান্য দিচ্ছে। কেউ বা বিনোদনের স্রোতে ভেসে হিন্দি ভাষার প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ছে। এমনি ভাবে ভাষা উপলব্ধির ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য ফাটল। আর এই ফাটল বেয়ে দূষিত নোনাজল ঢুকে পড়ছে আমাদের চেতনায়। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন বুঝে ওঠা মুশকিল কোনটি প্রকৃত সংস্কৃতি আর কোনটি অপসংস্কৃতি।

বাংলাদেশে আমার জন্ম হয়েছে বলে আমি সুখী। এ দেশেই মাতৃজরায়ুর অন্ধকার থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছি নতুন সূর্যের জেগে ওঠার মতো। আমি যখন ছয় দশকেরও আগে জন্মেছিলাম তখন দেশটি ছিল পরাধীন ভারতবর্ষের অর্ন্তগত। ব্রিটিশ উপনিবেশ। আমার সেই বেড়ে ওঠা শৈশবেই এ দেশটি পরিণত হয়েছিল পাকিস্তান রূপে। সে আরেক উপনিবেশ। সেই উপনিবেশিক কাল থেকে পর্যায়ক্রমিক সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল এই বাংলাদেশ। এ দেশে জন্মেছি বলেই এর নিসর্গ আমার ভাললাগে। ভাললাগে এর মাঠ- ঘাট। নদী-নালা, ঋতু বৈচিত্র, দিন-রাত্রি, গাছ-গাছালি, পাখ-পাখাল,  সমুদ্র ও আকাশ। ভালো লাগে রোদ- বৃষ্টি ও নীল কুয়াশার ধূম্রজাল। এ দেশের ঘ্রান আমাকে আকুল করে। এ দেশের মানুষ, তাদের ইতিহাসধারা, জীবনের স্বপ্নছটা আমাকে ক্লান্তিহীন উদ্দীপনা যোগায়। অধুনার এই ক্রান্তিকালেও আমি এদেশের মানুষের উপর সম্ভাবনার আশায় তরঙ্গের মতো কম্পিত হই। তখন সব হতাশা অপরূপ অগ্নিশিল্প হয়ে ওঠে। এর নির্জন বেদনা আমাকে মুগ্ধ করে। অন্তর্নিহিত সুর আলোরিত করে। তখণ মনে হয় জীবন নিরর্থক নয়। এই বেঁচে থাকা দিনের সূর্যের রঙে রাতের নক্ষত্রে মিশে যায়। তখন এক প্রগতিশীল অমৃতের বিশ্বের আকাঙ্খায় উদ্দেলিত হয়ে ওঠার সুখ অনুভব করি।

এ দেশে জন্ম না হলে একুশে ফেব্র“য়ারির মহান কারুকার্য, শক্তি ও অমিত তেজ কখনো অনুভব করতাম না। মুক্তিযুদ্ধের আলোকশিখা আমাকে কখনো উজ্জীবিত করতো না। স্বাধীনতার প্রানকম্পন কখনো অনুভব করতাম না। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের গৌরবকে অগনন আনন্দে অনপনেয় ভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ কখনোই হতো না।  আজো বারংবার সেসব স্মুতিসুখ আমার ধমনীকে কল্লোল তোলে। জাগায় এক আশ্চর্য প্রবাহ।

বাংলা একাডেমী একুশের এক নতুন শ্লোগান দিয়েছে। ‘একুশ আমাদের পরিচয়”। এ দেশের মানুষের সামগ্রিক পরিচিতিই যেন চিহ্নিত হয়ে আছে একুশের ভেতর। ভাল লাগে এ শ্লোগানটি। আমরা যা হতে চাই, যা হতে পারাটা সর্বোত্তম তার প্রতীক হচ্ছে একুশ। আমাদের হাতীয়তা, নৃতত্ত্ব, আচার, আচরণ, স্বভাব, নৈতিকতা, চিন্তাভাবনা, জীবনদর্শন, উৎসানল অনুভব, প্রেমপ্রীতি, বাৎসল্য, শিক্ষাদীক্ষা, সৌজন্যবোধ, সুন্দরতা, অসাম্প্রদায়িক, মানবতা, সবকিছুই এই একটি মাত্র চিহ্নায়নের মাঝেই ফুটে ওঠে। একুশ যেন এ দেশের মানুষের প্রগতির ক্লান্তিহীন এক উৎসমুখ। এই একুশে ফেব্রুয়ারিই সৃষ্টি করেছিল আধুনিকতার চেতনা। যার পুরোটা আমরা এখনো করায়ত্ব করতে পারিনি, যা এখনো পূর্ণ আকৃতি পায়নি। এমন এক অখন্ড জাতিসত্ত্বার চেতনা এই একুশেই সৃষ্টি হয়েছিল।

মানুষের মধ্যে পারষ্পরিক যোগসূত্রের বন্ধন সৃষ্টি করে ভাষা। সামাজিক বন্ধন সৃষ্টির প্রথম যোগসূত্র হচ্ছে ভাষা। ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া যা করতে পারে না, ভাষার সম্পর্ক অনায়াসে সে বন্ধনটুকুর অস্তিত্ব নিবির করে তুলতে পারে। তাই বিশ্বজুড়ে বাংলাভাষাভাষী মানুষ নিজেদের আত্মীয় মনে করে। ভাষা সম্পর্ককে কতটা নিবির করে তোলে, তার প্রমান পাওয়া যায় বিদেশে গেলে। এ প্রসঙ্গে কথাশিল্পী হুমায়ুন আজাদের একটি অমোঘ উক্তি উদ্ধৃত করতে চাই। “একজন বাঙালি মুসলমান, একজন সৌদি মুসলমান, একজন বাঙালি ভারতীয় হিন্দু ও একজন ইরাকি খ্রিস্টান যদি উত্তর মেরুতে পরস্পরের মুখোমুখি হয়, তবে দেখা যাবে, বাঙালি মুসলমান ও ভারতীয় বাঙালি হিন্দু ঘনিষ্ঠ হয়ে গেছে এবং সৌদি মুসলমান ও ইরাকি খ্রিস্টান ঘনিষ্ঠ হয়ে গেছে। কারন ধর্ম কাজ করে বিধানের মধ্য দিয়ে, আর ভাষা কাজ করে হৃদয়ের মধ্য দিয়ে। পৃথিবী জুড়ে যত বাংলাভাষী আছে তারা যে একই রাষ্ট্রের অধিবাসী হবে, তা নয়। তারা একাধিক রাষ্ট্রের অধিবাসী হতে পারে এবং তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ সম্পূর্ন বিপরীত হতে পারে। কিন্তু ভাষার নাড়ির বন্ধনে তারা আবদ্ধ।”

ভাষা এভাবেই পরস্পরকে নিখিল বন্ধনে আবদ্ধ করে, করতে পারে। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি বলেই আমরা বাঙালি। আর বাংলাদেশে বাস করি বলেই বাংলাদেশি। পৃথিবীতে একটি জাতিই রয়েছে যার নাম বাঙালি। এই সত্তা একটি অবিনশ্বর পরিচয়।

একুশ আমাদের শিখিয়েছে যে, সকল ভাষাই সমান মর্যাদাশীল। যে কোনো ভাষাই, হোক না তা ছোট, সংখ্যালঘুর ভাষা, আদিভাষীদের ভাষা, প্রান্তিক মানুষদের ভাষা, তাকে খাটো  করে দেখা- অমর্যাদা করা অন্যায়। সব ভাষার সম অধিকার বজায় রাখতে একুশ আমাদের উদ্দিপনা যোগায়।

একুশ আমাদের দিক নির্দেশনা দিয়েছে যে, এদেশে অসংখ্য উপজাতি যেমন- চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতাল বসবাস করে। এই অবিকশিত জাতিগোষ্ঠীর ভাষাকে সমমর্যাদা- সমঅধিকার দিতে হবে। তাদের সংস্কৃতিকেও পুষ্টি যোগাতে হবে যাতে সেসবও বিকশিত হয়। পূর্ন আকৃতি পায়। প্রকৃত সৌন্দর্যকে চেনা যায়। এদেশের ঐতিহ্যমন্ডিত ভাষা কনিকার সৌন্দর্য বিকশিত হয়।

এমনিতেই প্রতিনিয়ত বিশ্বময় ভাষার মৃত্যু হচ্ছে। এর কিছু উদাহরণ লক্ষ্য করা যায়। আমেরিকার আদিবাসীদের অন্যতম ভাষা ক্যাটাওবা’র সম্প্রতি মৃত্যু হয়েছে। এই ভাষায় আমেরিকার আদিবাসীরা অতীতে রণসঙ্গীত, শিকারসঙ্গীত, ধর্মসঙ্গীত রচনা করেছিল। তা এখন যাদুঘরে সংরক্ষিত। ৭৬ বছর বয়সী থান্ডারকা¬উড এর মৃত্যুর সাথে সাথে এই আদিম ভাষা বিলুপ্ত হয়েছে।

ভারত মহাসাগরে আন্দামান দীপপুঞ্জের ‘জেরু বা গ্রেট আন্দমানিজ’ ভাষায় কথা বলার লোক ২০ জনেরও নিচে নেমে গেছে। যারা এ ভাষায় কথা বলেন তারাও সকলে বৃদ্ধ। এদের মৃত্যুর সাথে সাথে প্রাক নিওলিথিক যুগের টিকে থাকা এই সর্বশেষ ভাষার কবর রচিত হবে। জাপানের প্রাচীন আইনু ভাষা, তাইওয়ানের তিন হাজার বছরের প্রাচীন মানমুন ভাষা, ওকলাহামার ইউচি ভাষা, ব্রাজিলের ওরোউইন ভাষা, নেপালের কুসুন্দা ভাষা,  রাশিয়ার কোরা উপকূলীয় তেরসামি ভাষা আজ মৃত্যুর মুখোমুখি।

বস্তুত: একুশের চেতনাই সন্বতার করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের। যাতে বিশ্বব্যাপী সকল ভাষার আন্তরপ্রকৃতি ও অস্তিত্বের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যায়। বিশ্ব শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্র“য়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্ব^ীকৃতি দিয়েছে। ভাষার এই আন্তর্জাতিক মমত্ববোধের আলোকশিখাটি জ্বালিয়েছে বাঙালির এই অনন্য চেতনা। তাই এই দিবসটিতে বিশ্বের অগনিত মানুষ নিজের ভাষার অস্তিত্বের সাথে বাংলা ভাষাকে স্মরন করবে।

বাংলাভাষা আজ পৃথিবীতে চতুর্থতম স্থান ধারন করে আছে। কিন্তু স্বদেশে বাংলা ভাষার মর্যাদা কি অস্তিত্ববান রয়েছে? এর বৈশিষ্ট কি উজ্জ্বল রয়েছে নাকি ম্লান হতে শুরু করেছে। সেদিকে পর্যবেক্ষনের চোখ বোলানোর প্রয়োজন আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বাংলা ভাষার উৎকর্ষ সাধনের সাথে সাথে পৃথিবীর সব ভাষা সংরক্ষনের উদ্যোগ, হুমকিতে পড়া আমাদের আদিবাসীদের ভাষা রক্ষা প্রকল্প, বিভিন্ন ভাষার উপাদান ডাটাবেইজে সংরক্ষন করার আন্তরিক উদ্যোগ নেয়ার সময় এসেছে।

একুশে ফেব্র“য়ারিতে এই কামনা ও সাধনা ফলপ্রসু হয়ে ওঠার মাধ্যমেই বাংলাভাষার সাফল্য ও আমাদের প্রগতিশীল জাতিসত্তার পরিচয় সার্থক হয়ে উঠতে পারে। যেন আমাদের এই উপলব্ধির সোনালী স্পর্শে সমস্ত ভাষার বিশ্বশিল্পলোক উদ্দিপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রসঙ্গক্রমে কবিতার চরন থেকে এর মর্মার্থ তুলে ধরতে চাই,

              মহীয়ান কিছু এই শতাব্দীতে আছে-

                  আরো এসে যেতে পারে;

                        কতশত রূপান্তর ভেঙ্গে

                   জয়জয়ন্তীর সূর্য পেতে হয়।

কাল পরিক্রমায় আবার আমাদের সামনে এসেছে সেই মহত্তম চেতনার একুশে ফেব্র“য়ারি।

একুশের উদ্দীপনা আমাদের মনকে স্বতন্ত্রভাবে আকৃষ্ট করে। হৃদয়ে মননে এনে দেয় আলোর ঝলকানি। বাঙালি সমাজ জীবনে শত শত বছর ধরে যত ব্যর্থতা, যত গ্লানি, বঞ্চনা পূঞ্জীভূত আবর্জনা সবকিছুকে আড়াল করে সাফল্যের, ত্যাগের, মহিমার একটি অসম্ভব মিনার দাড় করায় আমাদের সামনে।

তখন আমরা আবার জেগে উঠি। মৃত্যুঞ্জয়ী চেতনা আমাদের সবল করে। প্রেরনার প্রানোদনার এক অমৃতরস আমরা পান করি একুশের অমোঘ চেতনায়। আমাদের সাহিত্য, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান প্রভৃতির অস্তিত্বের সাথে ভাষার স্থায়িত্ব কে নতুন করে উপলব্ধি করার প্রয়াস পাই। কালস্রোতে ভাসমান সবকিছুর মতো আমাদের ভাষায়ও কি পরিমানে সময়ের পরিবর্তনের স্পর্শ লেগেছে তা খতিয়ে দেখতে চাই। কালাক্রান্ত ভাষার পরিবর্তন, প্রতিক্রিয়াশীলতা ও প্রগতির কথা আবার নতুন করে আমাদেরও ভাষার ইতিহাসের প্রতি তখন চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করে। যেহেতু ভাষা সামাজিক সম্পদ, কাজেই তাকে ব্যাক্তির ইচ্ছায় বদলানো যায়না। বরং সমাজ চায় তাকে টিকিয়ে রাখতে, অপরবর্তনীয় রাখতে। আবার অন্যদিকে সময়ের স্রোতে ভাষার পরিবর্তন হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য। ভাষার মধ্যে একই সাথে জাগমান থাকে সৃষ্টি ও চলমানতার যুগল ক্রিয়ার দ্বন্দ।

একুশ আমাদের ভাষা আন্দোলনের সেই মাইল ফলক। আজো তার উজ্জলতা ছড়াচ্ছে। এই সফলতা একুশ থেকে অর্জিত না হলে হয়তো উর্দুই হতো আমাদের উপর অর্পিত রাষ্ট্রভাষা। এবং এর আগ্রাসী ভূমিকা আমাদের সমস্ত স্বকীয়তাকে ম্লান করে দিতো। পাকিস্তান সৃষ্ট কৃত্রিম ধর্মানুভূতি আচ্ছন্ন করে রাখতো। বিজাতীয় তাহজীব তমুদ্দন ছড়িয়ে পরতো বানের পানির মতো। পাঞ্জাবী সামরিক আগ্রাসনে পর্যদুস্থ হতে হতো। শিক্ষা-দীক্ষা প্রগতির পথে নেমে আসতো এক বিরাট অচলায়তন। জনজীবনের সেই ভয়ংকর স্থবিরতার কথা ভাবলে আতঙ্কিত হতে হয়।

একুশে ফেব্র“য়ারি এলেই আমাদের স্মরণ হয় সেসব কীর্তিমান ভাষা সৈনিকদের কথা। তাদের মহত্তম অবদানের কথা। সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার সহ অসংখ্য মানুষের আতœত্যাগী ভূমিকার কথা। ভাষার জন্য জীবন বাজী রাখা লড়াইয়ে যাঁরা এই সাফল্যের ইতিহাস গড়েছে। একুশে ফেব্র“য়ারি তো সেই নির্মাণের ভিত্তিভূমি। এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে অর্জিত হয়েছে আরো অনেক সাফল্য। স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় তো এই ধারাবাহিকতারই প্রাপ্তি যোগ।

একুশ এলেই আমাদের মনে হয় বাংলা ভাষার যে পরিমান গুরুত্ব থাকা প্রয়োজন ছিল তা এখনো জোটেনি। বরং এক ধরনের নির্বিকার ঔদাসীন্য আমাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে। কেউ কেউ অতি প্রগতির কথা বলে ইংরেজির প্রতি প্রয়োজনের বেশি মোহাবিষ্ট হচ্ছে। কেউ ধর্ম ও পেশাজীবিতার কথা বলে আরবীকে প্রাধান্য দিচ্ছে। কেউ বা বিনোদনের স্রোতে ভেসে হিন্দি ভাষার প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ছে। এমনি ভাবে ভাষা উপলব্ধির ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য ফাটল। আর এই ফাটল বেয়ে দূষিত নোনাজল ঢুকে পড়ছে আমাদের চেতনায়। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন বুঝে ওঠা মুশকিল কোনটি প্রকৃত সংস্কৃতি আর কোনটি অপসংস্কৃতি।

একুশ আমাদের পরিচয়। এ দেশের মানুষের সামগ্রিক পরিচিতিই যেন চিহ্নিত হয়ে আছে একুশের ভেতর। ভাল লাগে এ শ্লোগানটি। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের ঐতিহ্যিক একুশের চেতনায় আগামীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভাবতে হবে। আবিস্কার করতে হবে পথ চলার গন্তব্য। একুশে ফেব্র“য়ারি উৎস। এ উৎস থেকেই কেবল তৈরি হতে পারে প্রগতির পথে আমাদের যাত্রার মনস্তাত্বিক নির্দেশনা।

 

লেখক পরিচিতি: বজলুল করিম বাহার

বিশিষ্ট কলাম লেখক ও শিক্ষাবিদ 

সভাপতি- সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)

বগুড়া ।