জেআইবি খুলেছে সাংবাদিকতা

প্রশিক্ষণে সম্ভাবনার দুয়ার

— মহসিন রাজু

 

ইতিহাসের বীর নায়ক বুঘরা খাঁ (বগরা খাঁ) এর স্মৃতি বিজড়িত বগুড়া শহরকে নিয়ে ভাবতে গেলে প্রথমেই মাথায় যে চিন্তাটা আসে সেটা হল ’৪৭’র ভারত বিভক্তির পর নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের ইস্টার্ণপার্ট বা পূর্বপাকিস্তানের উত্তরের বিভাগীয় জেলা হিসাবে বগুড়া কেন মনোনিত হল না? প্রশাসনিক বিন্যাসের সুবিধা, ১৬ জেলার নাগরিকদের যোগাযোগে সহজ ও সংক্ষিপ্ত সময়ের সুবিধা আর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা- সবদিক বিবেচনায় বগুড়াই হওয়া উচিত ছিল বিভাগীয় শহর। এখন  অবশ্য রংপুর বিভাগ হয়েছে। জনসংখ্যার ক্রমবৃদ্ধি বা অন্যান্য বাস্তব প্রয়োজনীয়তাই হয়তো আগামীতে বগুড়া ও দিনাজপুরকে বিভাগ করার দাবি উঠতে পারে। সে দাবী পূরনও করতে পারে ভবিষ্যতের সরকার।

যাই হোক, বাস্তবতার নিরিখে সেই সুদূর অতীত থেকে বগুড়া তার ভূ-খন্ডগত অবস্থান, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক, আন্দোলন ও সংগ্রাম- সবকিছুর মধ্যেই বিশিষ্টতা বজায় রেখেছে। বিশেষ করে সংবাদপত্র প্রকাশনার ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার বিকাশ ও পেশাগত দক্ষতার ক্ষেত্রে বগুড়া সারাদেশে একটি অগ্রসর জনপদ হিসেবে ¯^xK…wZ পেয়েছে। বগুড়ার সংবাদপত্রগুলোর সার্কুলেশন বা প্রচার সংখ্যা ঈর্ষনীয়।

দৈনিক, সাপ্তাহিক মিলিয়ে বগুড়ায় এখন অনেকগুলো পত্রিকা প্রকাশনার ডিক্লারেশন বা  সরকারি অনুমতিপত্র রয়েছে। বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিকগুলো হচ্ছে ১. দৈনিক বাংলাদেশ ২। দৈনিক করতোয়া ৩। দৈনিক উত্তরাঞ্চল, ৪। দৈনিক উত্তরবার্তা ৫। দৈনিক মুক্তবার্তা, ৬। দৈনিক আজ ও আগামীকাল ৭। দৈনিক সাতমাথা ৮। দৈনিক দুর্জয়বাংলা ৯। দৈনিক চাঁদনীবাজার ১০। দৈনিক সকালের আনন্দ ১১। দৈনিক মু্‌ক্ত সকাল ১২। দৈনিক কালের খবর ১৩। দৈনিক মহাস্থান ১৪। দৈনিক বগুড়া ১৫। দৈনিক সকলের খবর ১৬। দৈনিক উত্তরের খবর ১৭। দৈনিক সংবাদ কনিকা ১৮। দৈনিক উত্তরকোন ১৯। দৈনিক প্রভাতের আলো ২০। দৈনিক বুলেটিন ২১। দৈনিক আলো প্রতিদিন ২২। সাপ্তাহিক জীবন ২৩। সাপ্তাহিক কাঁকন ২৪। সাপ্তাহিক পূর্বালোক ২৫। সাপ্তাহিক সাতদিনের রোজনামচা ২৬। সাপ্তাহিক শরণীসহ অসংখ্য নিয়মিত এবং অনিয়মিত প্রকাশনা অব্যাহত রয়েছে। প্রয়াত মহসিন আলী দেওয়ান, মজির উদ্দিন তালুকদার, আঃ হান্নান, মোজাম্মেল হক, রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, কাজী এরাদাতুল্লাহ, মীর্জা আমজাদ, মুহম্মদ আব্দুল মতিন, দুর্গাদাস মুখার্জ্জী প্রমুখ সাংবাদিকদের আত্মত্যাগের ফসল হচ্ছে বগুড়া সাংবাদিকতার সফলতার মূলভিত্তি।

¯^vaxb বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক- দৈনিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক, প্রকাশক সাংবাদিকতার জীবন্ত কিংবদন্তী জনাব আমান উল্লাহ খান, জনাব যাহেদুর রহমান যাদু (সহকারি সম্পাদক দৈনিক করতোয়া/প্রতিনিধি বিটিভি) বগুড়ার সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের অনুপম অলংকার। প্রবীন/নবীন মিলিয়ে শতাধিক প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী সাংবাদিক এখন প্রতিদিন বগুড়ার সাংবাদিকতার অগ্রগতির ইতিহাস রচনা করে চলেছেন। সাংবাদিকতা পেশায় এগিয়ে আসছে সর্বোচ্চ একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত নতুনের দল।

কিন্তু বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের সাংবাদিকতায় অগ্রসরমান শিক্ষিত তরুন/তরুণীদের সাংবাদিকতার একাডেমিক প্রশিক্ষণের বিষয়টি এই মুহুর্তে অতি প্রয়োজনীয় বিষয় বলে অনুভব করছি। শুধু উত্তরাঞ্চল কেন দেশে যেভাবে অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার বিকাশ ঘটছে তাতে ঐ সব প্রতিষ্ঠানের কর্মরত সংবাদকর্মীদের একাডেমিক প্রশিক্ষণের জায়গা বা সুযোগ কোথায়? প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাবে ইদানিং কথা উঠেছে পেশাগত অদক্ষতার? পেশাগত অদক্ষতার কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সামগ্রিক সাংবাদিকতার মান। দেশের সামরিক বাহিনী, পুলিশ বাহিনী ও সিভিল সার্ভিস ক্যাডারদের জন্য রয়েছে সরকারি ভাবে ¯^xK…Z একাডেমি। সেখানে প্রশিক্ষণের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের।

অথচ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ খ্যাত মিডিয়ার হাজার হাজার কর্মীর জন্য রয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং কিছু বেসরকারি, এনজিওর সীমিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। যা মিডিয়া কর্মীদের চাহিদার ৫ শতাংশও মেটাতে পারে না।  সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। যা সামগ্রিক চাহিদার ২ শতাংশও পূরণ করে না। এমনই এক নির্মম বাস্তবতার মুখে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ ভুক্ত) শিক্ষিত তরুণ ও তরুণীদের জন্য ¯^‡cœi সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে জার্নালিজম ইনস্টিটিউট অব বগুড়া (জেআইবি)। যা সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ক অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র হিসাবে কাজ শুরু করেছে।

শুধুমাত্র মিডিয়া অঙ্গনে আগমনে ইচ্ছুক তরুণ/তরুণীই নয় বরং যারা দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই মিডিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত আছেন তারাও এখানে বিভিন্ন শর্ট ও লং কোর্সে শিক্ষার্থী হিসাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। দেশের মিডিয়া অঙ্গনের সুপরিচিত প্রশিক্ষকগণসহ স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাও এখানে প্রশিক্ষণসহ সামগ্রিক কর্মসূচিতে জড়িত রয়েছেন। সাংবাদিক এসএম কাওসার প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যাক্তা এবং mgš^qK এর দায়িত্ব পালন করছেন। নবগঠিত এই একাডেমী সামগ্রিক ভাবে মিডিয়াকর্মীদের পেশাগত মান উন্নয়ন ছাড়াও সাংবাদিকতায় সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।

লেখক পরিচিতি: মহসিন আলী রাজু

আঞ্চলিক প্রধান, দৈনিক ইনকিলাব, বগুড়া অফিস