IMG 414

তথ্য সন্ত্রাস অতর্কিত কোন আপদ নয়

বরং আর্থিক অবস্থার ঘনীভূতরূপ

–ওয়াসিকুর রহমান বেচান  

বিজ্ঞানের নব নব উদ্ভাবন মানুষের কল্যাণে ব্যবহার হয়েছে, আবার চরম অকল্যাণে অপপ্রয়োগও হয়েছে। ভালর মধ্যেই মন্দ এ যেন প্রকৃতির এক অনিবার্য নিয়তি। আইনস্টাইনের নিউক্লিয়াস তত্ত্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে জনহিতকর অবদান রাখছে, আবার জাপানের হিরোশিমা- নাগাসাকিতে মানবতা ধ্বংসের এক জঘন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আধুনিক তথ্যপ্রবাহ মানুষের ঘরে ঘরে সারা বিশ্বের সংবাদ পৌঁছে দিয়ে উপকার করছে, আবার সাম্রাজ্যবাদি পুঁজি রড়্গা এবং তাদের ভূ-আঞ্চলিক, রাজনৈতিক ও সামরিক ¯^v_© রড়্গার সেবাদাস হিসেবে তথ্য ‘সন্ত্রাসের’ জন্ম দিয়েছে। শুধু আন্তর্জাতিক পরিসরেই নয় বিশ্বের দেশে দেশে তথা বাংলাদেশেও এর ছোঁয়া লেগেছে। তবে এই ‘তথ্য সন্ত্রাস’ অতর্কিত কোন আপদ নয়, বরং একটি বিশেষ পরিস্থিতির উপসর্গ মাত্র। প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান সংবাদপত্রের ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, ‘সংবাদ মাধ্যমগুলো জনগণের সম্মতি উৎপাদন করে’। তাঁর ভাষায়, ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট অর্থাৎ শাসকগোষ্ঠী বা ¯^v_©ev`xgnj তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে যেসব ফন্দি-ফিকিরে লিপ্ত, সেসব ফন্দি-ফিকিরের ¯^c‡ÿ জনসম্মতি সৃষ্টি করাই সংবাদপত্রের কাজ। কারণ ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের এই যুগে পত্র পত্রিকার মালিক হলো ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের মালিকরাই। বিখ্যাত মার্কিন পন্ডিত ও ঘওওঞ এর প্রফেসর নোয়াম চমস্কি অধ্যাপক অ্যালেক্স ক্যারির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, বিংশ শতাব্দীতে তিনটি প্রধান প্রবণতার উদ্ভব হবে। এগুলো হচ্ছে- যথাক্রমে ভোটাধিকারের বিসত্মৃতি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্পোরেট বিকাশ এবং গণতন্ত্রকে ড়্গুণ্ন করতে কর্পোরেট প্রপাগান্ডার উদ্ভব। জনসংযোগ শিল্প হিসেবে আমরা যা প্রত্যড়্গ করি, যেমন- রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ইত্যাদি। এসবের কাজ হচ্ছে, জনগণের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। বড় বড় কর্পোরেশনগুলো সঠিকভাবেই বুঝতে পেরেছিল তাদের ¯^v‡_©i জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো জনগনের সঠিক চিনত্মা ভাবনা। সুতরাং জনগণের মনের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে গণমাধ্যম শিল্পগুলোও তারা মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। কাজেই নামকরা সব পত্র-পত্রিকায় যা কিছু ছাপা হয়, তাকে কোন সচেতন মানুষের পড়্গেই বেদবাক্যরূপে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। এই প্রপাগান্ডা বা প্রচারণা যদি ফার ইস্টার্ণ ইকনমিক রিভিউ, এশিয়া উইক, ব্যাংকক পোস্ট, সাউথ চায়না মর্ণিং পোস্ট, স্ট্রেট টাইমস, হেরাল্ড ট্রিবিউন, ডেইলি টেলিগ্রাফ, ফিন্যান্সিফয়াল টাইমস বা টাইমের মত পত্র-পত্রিকার উপজীব্য হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে বিশ্বময় যে গোলযোগের সৃষ্টি হবে, তা যে কত ভয়াবহ- তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। কেননা, এই সমসত্ম গণমাধ্যমের নেপথ্যে রয়েছে ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের মলিকরা। আজকের বিশ্বে কথিত ইসলামী মৌলবাদের নামে পশ্চিমা মিডিয়ায় যে প্রচার প্রপাগান্ডা চলছে এর পেছনে রয়েছে একেকটি কর্পোরেট ও ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের ¯^v_©|

বাংলাদেশে বিশাল বিশাল কর্পোরেট ও ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের উদ্ভব না ঘটলেও সীমিত আকারে ইকনকি সিন্ডিকেটের প্রবণতা লড়্গ্য করা যাচ্ছে। এদের অর্থনৈতিক ¯^v_© পাহারা দেয়ার জন্য একেকটি পত্র-পত্রিকার মালিকানা ও প্রকাশক হিসেবে আর্বিভূত হচ্ছে। রাজনীতি আর বাণিজ্যনীতি একাকার হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক পরাশক্তি এব তাদে ভূ-আঞ্চলিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ¯^v‡_©i আর্থিক লেনদেন। তাই সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর যতটা না দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণের দিকে লড়্গ্য রাখা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ¯^v_© ও ব্যবসা- বাণিজ্যের মতলব হাছিলের প্রতিফলন ঘটছে। জন্ম নিচ্ছে মিডিয়া সিন্ডিকেট ও তথ্য সন্ত্রাস। তাই ¯^‡`kx কোন সংবাদপত্রে বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক, উগ্র মৌলবাদী এবং জঙ্গী তৎপরতার ঘাঁটি হিসেবে যখন চিত্রিত করা হয় তখন অবাক হবার কিছু নেই। কেননা এর পেছনে রয়েছে ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের মালিকদের ব্যবসা- বানিজ্য ও অর্থনৈতিক ¯^v_©|

সংবাদপত্রের কর্মী তথা সাংবাদিকরা তাদের রম্নটি-রম্নজি, চাকুরী ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রড়্গার তাগিদে একেকটা মিডিয়া সিন্ডিকেটের দাসানুসারে পরিণত হতে বাধ্য হয়। সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মতভেদকে নিষ্ঠুর মতবিরোধে পরিণত করা হয়। ফাইন্যান্স ক্যাপিটালের মালিকরা এক সাংবাদিককে দিয়ে আরেক সাংবাদিককে নির্মূল করতে বাধ্য করে। তবে একথা ঠিক, একজন পূজির মালিক যেমন সাংবাদিক ছাড়া সংবাদপত্র প্রকাশ করতে পারে না, অপরদিকে একজন সাংবাদিক পুঁজি ছাড়া শুধু লেখনীর মাধ্যমে সংবাদপত্রের মালিক হতে পারে না। এখানে উভয়রেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সাংবাদিক ইচ্ছা করলে রাজনৈতিক মতবিরোধকে মতভেদে রূপানত্মরিত করে এই আপদ থেকে রেহাই পেতে পারে। দেশ, জাতি ও জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট রেখে তথ্যসন্ত্রাসকে রম্নখে দিকে সাংবাদিক ঐক্যের বিকল্প নেই।

 

লেখক পরিচিতি: ওয়াসিকুর রহমান বেচান

সম্পাদক, দৈনিক মুক্তবার্তা