বগুড়ার উন্নয়নে গণমাধ্যম

— চপল সাহা

শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বগুড়া বাংলাদেশে বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে যেমন শস্য ফলে তেমনি শিল্প কারখানায় উৎপাদিত হয় নানা ধরনের পণ্য। সব মিলিয়ে বগুড়া দেশের অন্যতম একটি জেলা। সরকারী ভাবে বগুড়া যতটা না উন্নত তার চেয়ে বেশী বেসরকারীভাবে। তাই বগুড়ার উন্নয়ন যে কারোরই চোখে পড়ে। এসব নিয়ে বগুড়ার গণমাধ্যমগুলো অনেক আগে থেকেই বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে। গণমাধ্যমের এই ভূমিকা রাখার কারনেই বগুড়া গোটা দেশে একটি আলোচিত নাম হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। হয়তো আরো বেশী কিছু উন্নয়নের খবর প্রচার হওয়া উচিৎ ছিল। জাতীয় পত্রিকার পাশাপাশি স্থানীয় পত্রিকাতেও এসব উন্নয়নের খবর ধারাবাহিকভাবে উঠে আসতে পারে। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও বগুড়াকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, এর কারন কিন্তু একটাই তা হলো বগুড়া অনেক জেলার চাইতে এগিয়ে আছে কিংবা এগিয়ে যাচ্ছে।
ভৌগোলিক দিক থেকে বগুড়ার গুরুত্ব অনেক বেশী। বগুড়ায় নগর কেন্দ্রীক সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে। যাকে আমরা পুন্ড্রনগরী হিসেবে অখ্যায়িত করি। সেই পুন্ড্রনগর বগুড়া থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার উত্তরে। ঐতিহাসিক করতোয়া নদীর পারে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা কালের বিবর্তনে গোটা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়েছে অনেক আগেই। বর্তমানে মহাস্থানগড় নামেই এটি পরিচিত। ঐতিহাসিকদের মতে পুন্ড্রনগরী ছিল গোটা বাংলার রাজধানী। এখানে ক্রমানুসারে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং মুসলিম সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। সময়ের সাথে সাথে এই সভ্যতা মাটির নীচে চাপা পড়লেও পাশেই গড়ে ওঠে বগুড়া শহর। প্রাচীন এই শহরটি ১৮৭৬ সালে পৌরসভার মর্যাদা পায়। উত্তরাঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত বলে বগুড়া ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকেই গুরুত্ব বহন করে আসছে। দ্রুত এখানে গড়ে ওঠে নানা ধরনের শিল্প কারখানা। শিল্পের বিকাশ ঘটায় বগুড়া গোটা দেশে শিল্পনগরী হিসেবে স্থান করে নেয়। প্রায় সব ধরনের শিল্পের প্রসার ঘটায় বানিজ্যিকভাবে বগুড়ার গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। আমরা যদি নিকট অতীতে ফিরে যাই তবে দেখতে পাব এখানে শিল্পের সাথে সংস্কৃতি এবং সংবাদপত্রের বিকাশও ঘটতে থাকে সমান তালে।
প্রশ্ন হলো বগুড়ার উন্নয়নে গণমাধ্যম কতটুকু ভূমিকা পালন করেছে? এটা সত্য বগুড়ার কৃষি ও শিল্পের প্রসার গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে গণমাধ্যমের কারনে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে কিন্তু বগুড়ার প্রচার ছিল শুরু থেকেই। যা এখনো আছে। ¯^vaxbZvi পরবর্তীতে এখানকার অনেক শিল্পের অকাল মৃত্যু হয়েছে, যা অনাকাংখিত ছিল। এরজন্য তৎকালীন শিল্প মালিক এবং সরকারী পদস্থ কর্মকর্তারা দায়ী বলে মনে করা হয়। তাই বলে বগুড়ার উন্নয়ন কিন্তু থেমে থাকেনি। আবারো বগুড়া তার হারনো অতীতকে ফিরে পেয়েছে। হালকা এবং মাঝারী শিল্পে বগুড়া দেশের অন্যতম একটি জেলা শহর হিসেবে আবারো স্থান করে নিয়েছে। এসব উন্নয়নের খবর নিয়ে বসে নেই সাংবাদিকরা। জাতীয় ও স্থানীয় সকল পত্রিকা এবং টিভিতে প্রায় প্রতিদিনই এর প্রচার হচ্ছে বগুড়ার উন্নয়নের সংবাদ । বগুড়ায় নিয়মিত অনিয়মিত মিলে প্রায় ১৪টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এসব পত্রিকার কারনে বগুড়াকে অনেকেই পত্রিকার শহর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু কথা হলো এসব পত্রিকায় বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে কতটুকু লেখা হয়? সাংবাদিকরা কি তাদের কলমে তুলে আনতে পারছেন বগুড়ার উন্নয়নের কথা। অনেকেই লিখছেন এসব নিয়ে। বিশেষ করে ষাট এবং সত্তর দশকের সাংবাদিকরা যেভাবে বগুড়াকে পত্রিকায় তুলে ধরেছেন বর্তমানে সেই ধারা ততটা না থাকলেও বর্তমানের গণমাধ্যম কর্মীরা সেই ধারা বহন করে চলেছেন। অবশ্য সমসাময়িক রাজনৈতিক কারনে ইচ্ছা থাকলেও উন্নয়নের কথা তুলে ধরার জায়গা জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় পাওয়া যায়না। তবে গণমাধ্যমের কিছু কর্মী কর্মশালা এবং সেমিনার করে সাংবাদিকদের উদ্ধুদ্ধ করছেন উন্নয়নের কথা তুলে ধরার জন্য। ফলে মাঝে যা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছিল সেটা আবার অনেকটাই ফিরে এসেছে। যা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।
এক সময় বগুড়া শহর ছিল সরু রাস্তার ঘিঞ্জি শহর। যানবাহন দুরের কথা মানুষের চলাচল করাই ছিল দুরুহ। সেই অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। শহরের রাস্তা প্রসারিত হয়েছে। সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার দিয়ে একমূখী পথ করা হয়েছে। গোটা জেলাতে সড়ক পথের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। আবার অবহেলার অনেক কিছুই চোখে পড়ে। এসব সংবাদ গণমাধ্যম কর্মীরা তুলে ধরছেন। এরফলে কিছু উন্নয়ন হলেও সেটা কিন্তু তেমন চোখে পড়ার মতো নয়। রাজনৈতিকভাবে বগুড়া কখনো উন্নয়নের ছোয়ায় এগিয়ে গেছে, আবার কখনো অনেক পিছিয়ে পড়েছে। তবে গণমাধ্যম কর্মীরা কিন্তু বসে থাকেন নি। তারা তাদের কাজ ঠিকই করে চলেছেন। এই ধারা কখনোই বন্ধ করা ঠিক হবেনা। তাহলে বগুড়ার উন্নয়নের খবর থেকে বঞ্চিত হবে গোটা দেশবাসী।

লেখক পরিচিতি: চপল সাহা
ব্যুরো প্রধান, এটিএন নিউজ
বগুড়া অফিস।