IMG 417

 

পুলিশ-প্রেস সম্পর্ক

— মোঃ মোজাম্মেল হক, পিপিএম    

        

 

খুব বেশী ছিদ্রান্বেষী (cynic) নন এমন ব্যক্তি মাত্রই একমত হবেন অনেক চরাই উৎরাই পেরিয়ে অনেক রকম টানাপোড়েনের মধ্যেও স্বাধীনতার পর বিশেষ করে গত দুই দশকে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। হয়তো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি তবে অগ্রগতির ধারা লক্ষনীয় এবং অব্যাহত। এমনই একটি উজ্জ্বল ক্ষেত্র হচ্ছে গনমাধ্যমের ব্যাপক প্রসার। প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া তাদের কাজের পরিধি বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিক মানসিকতা সম্পন্ন কর্মীবাহিনী গঠন করে একটি মানসম্মত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে যা একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য আপরিহার্য।

ঐতিহাসিকভাবে এদেশের গণমাধ্যমের একটি প্রগতিশীল ঐতিহ্য আছে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার সূত্রপাত এবং ১৯৭১ সালের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের মধ্য দিয়ে তার সার্থক পরিস্ফুটন এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় প্রিন্ট মিডিয়া একটি কার্যকর ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। সে সময়ে ইলেষ্ট্রনিক মিডিয়া রেডিও ও টেলিভিশন সম্পূর্ন সরকার নিয়ন্ত্রিত এবং স্বৈরাচারী সরকারের অগণতান্ত্রিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রচারযন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। স্বাধীনতার পরেও দীর্ঘ সময় রেডিও ও টেলিভিশন সম্পূর্ন সরকার নিয়ন্ত্রিত থাকায় রেডিও টের্লিভিশনের স্বায়ত্বশাসন ছিল এক সময় একটি জনপ্রিয় কিন্তু উপেক্ষিত দাবী। তবে অধুনা প্রযুক্তির কল্যাণে কয়েকটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এবং বেসরকারী রেডিও স্টেশন স্থাপিত হয়েছে এবং সরকারী রেডিও ও টেলিভিশনের একচেটিয়া আধিপত্যকে এমনই নাড়া দিয়েছে যে সরকারী রেডিও ও টেলিভিশনের স্বায়ত্বশাসনের ইস্যু অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলসমূহ টেরেস্ট্রিয়াল সুবিধা না পেলেও কেবল টিভি উপজেলা পর্যায় ছেড়ে অনেক ইউনিয়ন/গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ায় একটি বিরাট জনগোষ্ঠী বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলসমূহের দর্শক হয়েছে।

সম্প্রসারণশীল এবং নিবিড় গণমাধ্যমের বিকাশের এই যুগসন্ধিক্ষনে পুলিশ প্রেস সম্পর্ক নতুন কলেবর গ্রহন করছে। সরকারের সবচাইতে দৃশ্যমান অঙ্গ পুলিশ সদা সর্বত্র বিরাজমান থেকে নিরলস দায়িত্বপালন করে চলে। বর্তমান কাঠামোর পুলিশ বাহিনীর সূত্রপাত হয়েছিল ১৮৬১ সালে প্রণীত পুলিশ আইনের মাধ্যমে এবং বিকাশ লাভ করেছে প্রথমে ব্রিটিশ ঔপনিবেসিক যুগে এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানী ঔপনিবেসিক যুগ পার হয়ে ¯^vaxb বাংলাদেশের আমলে। দীর্ঘ ঔপনিবেসিক আমলে শুধু পুলিশ নয় সরকারী প্রশাসনের সকল অংশে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে জনগণ থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন থাকা এবং ঔপনিবেসিক শাসকদের শাসন ও শোষনের অনুসঙ্গ হিসাবে নিজেদেরকে জনগণ থেকে শ্রেষ্ঠতর শ্রেণী মনে করার মধ্য দিয়ে শাসকসুলভ মানসিকতা গড়ে উঠেছিল ¯^vaxb বাংলাদেশে এরূপ মানসিকতার পরিবর্তন হয়ে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি চালু হচ্ছে। প্রত্যেক সরকারী বিভাগে নিজস্ব অভ্যন্তরীন খবরদারী এবং জবাবদিহিতার ব্যবস্থা প্রবর্তন ছিল এবং এখনো আছে। এছাড়া পুলিশ বিভাগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের আদালত বিশেষতর উচ্চতর আদালতের তত্ত্বাবধান এবং আদালতের নিকট জবাবদিহিতা ভাল আচরণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছে এবং আদালতের এই ভূমিকা এখনও অব্যাহত আছে। কিন্তু যে জনগণের সেবা করা পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য সেই জনগণ কখনো সরাসরি পুলিশকে তার কাজের বৈধতা ও যৌক্তিকতা বিষয়ে কৈফিয়ত চাইতে পারেনি সাম্প্রতিক কাল ব্যতীত। পুলিশের কাছে তার কাজের কৈফিয়ত চাওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম করে দিয়েছে গণমাধ্যম। জনগনের হয়ে পুলিশকে তার কাজের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে বাধ্য করেছে গণমাধ্যম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে। পুলিশের কর্মকান্ডের ওপর গণমাধ্যমের খবরদারী (oversight) একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন (Paradigm Shift) । খুব বেশি কৈফিয়ত না দিতে অভ্যস্ত মানসিকতার পুলিশ বিভাগকে এমন একটি গ্রুপের খবরদারী (ovrsight) মেনে নিতে হচ্ছে যে গ্রুপকে কিছু দিন পূর্বেও খুব বেশি গুরুত্ব না দিলেও চলতো।

পুলিশের কর্মকান্ড নিয়ে গণমাধ্যম কেন এত বেশী সংবেদনশীল তা বিবেচনা করে দেখা যাক। সমাজের সকল পেশার মানুষের কাজ নিংসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এবং উন্নত দেশ ও সুন্দর জীবন গঠনে সকল পেশাজীবী কর্মজীবী কৃষক শ্রমিক ইত্যাদি সকলের অবদান Ab¯^xKvh©| তারপরও একথা মানতেই হয় যে পুলিশের কাজ একটু বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের বিচারের জন্য সোপর্দ করা খুব অল্প কথায় পুলিশের কাজ বর্ননা করা হলেও দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া তথা ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের প্রতিটি কর্মকান্ডের সাথে পুলিশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে হয়, প্রত্যক্ষভাবে নিরাপত্তা প্রদান করতে এবং পরোক্ষভাবে নিরাপত্তা বোধ তৈরী করতে হয়। এর জন্য পুলিশকে টহল দিতে হয়, গোপন সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়, অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারীতে রাখতে হয়, জনসাধারনের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে হয়, সংগঠিত অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে গ্রহনযোগ্য সাক্ষ্য প্রমান সংগ্রহ করতে হয়। এ সকল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশকে কয়েকটি কাজ করতে হয় যা ব্যক্তি-মানুষকে সরাসরি স্পর্শ করে যেমন গ্রেফতার, দেহ তল্লাশী, গৃহ তল্লাশী, লাগেজ তল্লাশী, জিজ্ঞাসাবাদ ইত্যাদি।

উলেখিত প্রত্যেকটি বিষয় ব্যক্তির সম্মান, অহম এবং ¯^v”Q›`¨‡K এত বেশী নাড়া দেয় যে গোটা দেশ, জাতি ও সমাজ নিশ্চিত হতে চায় যে এই কাজগুলো পুলিশ অত্যন্ত সঠিকভাবে করবে এবং একবিন্দু বাড়াবাড়ি করবে না। সরকারের অন্যান্য বিভাগের অনেক অনিয়মের বিষয়ে মানুষ বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ হলেও খুব বেশী বিচলিত হয় না এবং অধিকাংশ মানুষ এগুলো উপেক্ষা করতে প্রস্তুত। কিন্তু পুলিশের তিলমাত্র অনিয়ম মানুষ উপেক্ষা করতে প্রস্তুত নয়। সে কারণে পুুলিশ m¤^‡Ü জনসাধারণ এত বেশী সংবেদনশীল। গনমাধ্যম যেহেতু জনসাধারণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে চায় কেননা জনসাধারণ বিমুখ হলে অর্থাৎ চ্যানেল ঘুরিয়ে অন্য চ্যানেলে চলে গেলে অথবা এক পত্রিকার সাবক্রিপশন বন্ধ করে অন্য পত্রিকা রাখলে স্পন্সররা তা ধরে ফেলবেন কেননা স্পন্সররা লক্ষ-লক্ষ টাকার স্পন্সরশিপ দিয়ে নিশ্চিন্ত বসে থাকেন না। তাদের স্পন্সররা মার্কেট রিসার্চ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোন টেলিভিশন চ্যানেলের প্রোগ্রাম দর্শক কত ঘন্টা দেখেন অথবা কোন সংবাদপত্রের প্রকৃত সার্কুলেশন কততা জেনে নেন। তাই পুলিশ m¤^‡Ü জনগনের সংবেদনশীলতা অনিবার্য ভাবেই গণমাধ্যমে সঞ্চারিত হয়েছে।

পুলিশ প্রেস সম্পর্ক অনুধাবনের জন্য পুুলিশ প্রেস বা গণমাধ্যমকে কিভাবে দেখে অন্যদিকে গণমাধ্যম পুলিশকে কিভাবে দেখে এই দুইমুখী উপলব্ধি (perception) বিবেচনা করা প্রয়োজন। পেশাদারিত্ব এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতির পাশাপাশি পুলিশের কারো কারো মধ্যে এখনও কিছুটা †¯^”QvPvwiZv আছে যদিও তা সার্বজনীন নয়। যেকোন †¯^”QvPvwiZv কোন প্রকার জবাবদিহিতাকে অপছন্দ করে। গণমাধ্যম যখন নতুন রূপে ও নবমাত্রায় আত্মপ্রকাশ করে তখন পুলিশের জবাবদিহিতার ঐতিহ্যগত মাধ্যমের বাইরে গণমাধ্যমের অভিনব জবাবদিহিতার সম্মুখীন হয়ে প্রথমে একে A¯^xKvi করতে চায়, বিরুপভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং শীতল দূরত্ব সৃষ্টি করে। তবে ক্রমে পুলিশ বিভাগ সাধারণভাবে এবং পুলিশের অভ্যন্তরে †¯^”QvPvix অংশ উপলব্ধি করে গণমাধ্যমের নিকট জবাবদিহিতা একটি স্থায়ী বাস্তবতা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ যা উন্নত গণতান্ত্রিক দেশসমূহে অনেক পূর্ব হতেই ¯^xK…Z| দেরীতে হলে পুলিশ বিভাগের এই উপলব্ধি নিজেদেরকে শুধরে নিয়ে †¯^”QvPvwiZvi অবসান ঘটিয়ে গণমানুষের প্রিয় পুলিশ হওয়ার ঐকান্তিক চেষ্টা লক্ষনীয়ভাবে চোখে পড়ছে।

পক্ষান্তরে গনমাধ্যম পুলিশকে যে চোখে দেখে তা অনেকাংশে পুলিশের ঐতিহ্যগত ইমেজ ক্রাইসিস দ্বারা প্রভাবিত। পুলিশের ইমেজ ক্রাইসিসের মূলতঃ দুইটি উপাদান ঃ একটি হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের একটি ক্ষুদ্র অংশের †¯^”QvPvwiZv ও দুর্নীতি, অপরটি হচ্ছে পুলিশের কাজের প্রকৃতি যা কিছু মানুষের ¯^vaxbZv‡K অনেক সময় হরন করে। এসব মানুষেরা অপরাধী বা দোষী হলেও তারা নিজেদের দোষ ¯^xKvi না করে পুলিশের উপর দায় চাপায় এবং তাদের AvZ¥xq-¯^Rb বন্ধু-বান্ধব প্রতিবেশীর মাধ্যমে পুলিশ m¤^‡Ü একটি নেতিবাচক ধারনা ছড়িয়ে পড়ে। নিজের AvZ¥xq¯^Rb বন্ধু-বান্ধবকে নিরপরাধ ভাবা আমাদের দেশে একটি প্রথার মত ব্যাপার। এমনই সামাজিক বাতাবরনে থেকে সংবাদ কর্মীরা পুলিশকে অসৎ এবং দুর্নীতিপরায়ণ বলে জানতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক উত্থান ও বিকাশ এখনও ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সাংবাদকর্মীর সংখ্যা হঠাৎ করে কয়েকগুন বেড়ে গেছে। সংবাদকর্মীরা বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন গঠন করেছে এবং এরূপ সংগঠনের সংখ্যাও অনেক। প্রত্যেক পেশজীবীদের শৃঙ্খলা ও পেশাগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকা দরকার যেমন আছে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবি ইত্যাদি পেশাজীবীদের কিন্তু সংবাদকর্মীদের এরূপ কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা না থাকায় খুব সহজেই সংবাদকর্মী হওয়া যায় এবং অনেক সংবাদকর্মীর নৈতিক ও পেশাগত মান যথেষ্ট উচ্চ নয় বলে প্রতীয়মান হয়। পরিচিতি (অপপৎবফরঃধঃরড়হ) এর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় সংবাদকর্মী পরিচয় সহজ হয়ে যায় আবার সংবাদকর্মীর জন্য অনুসরনীয় কোন আচরন বিধিমালা (ঈড়ফব ড়ভ ঈড়হফঁপঃ) না থাকায় সংবাদকর্মীর অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহার করে পার পেয়ে যান। সকল পেশাজীবী গ্রুপে এরূপ কিছু ব্যক্তি থাকে যাদের আচরণ মানসম্মত নয় এবং যাদেরকে শৃঙ্খলার আওতায় আনার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রয়োজন। সংবাদকর্মীদের একটি অংশের †¯^”QvPvwiZvi জন্য অনেক সময় অন্য সংস্থা বিশেষতঃ পুলিশের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়।

গণমাধ্যমের গুরুত্ব ও মর্যাদা নতুন করে বলা অনাবশ্যক। একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে সকল প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য তার একটি হচ্ছে ¯^vaxb নিরপেক্ষ ও দক্ষ সংবাদ মাধ্যম। শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। নির্বাচিত সরকারের প্রতিটি কর্মকান্ড, সরকারের প্রত্যেকটি অঙ্গের কর্মকান্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে এবং জনগণের কাছে তা নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করা সংবাদমাধ্যমের পবিত্র দায়িত্ব। সরকারের প্রত্যেকটি বিভাগকে এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে এবং সাংবাদ মাধ্যমের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে হবে।

পুলিশ ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক সর্বদাই বিতর্কিত যদিও শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষেরই উদ্দেশ্য জনগণের সেবা করা। পুলিশের নিরলস চেষ্টা নিরাপত্তা ও ¯^vaxbZv রক্ষা করা যা সকল নাগরিকের অধিকার। গণমাধ্যম evK¯^vaxbZv রক্ষায় সোচ্চার যা গণতন্ত্রের ভিত্তিমূল। তারপরও দুইপক্ষের মধ্যে কিছু বিভেদ দেখা যায়। পুলিশের নীতির মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে গোপনীয়তার বিষয় আছে। তথ্য প্রকাশ না করতে পুলিশকে শেখানো হয়। পুলিশের ইউনিফর্ম পরা প্রত্যেকের মধ্যে গোপনীয়তা ও বিশ্বাসের বিষয়টি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে গণমাধ্যমের অস্তিত্বের পদ্ধতি সম্পূর্ন ভিন্ন। তাদের অস্তিত্ব নির্ভর করে তথ্য প্রকাশের উপরে। তাদের মিশন হচেছ তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করা। সবসময় যে সবার আগে খবর হওয়ারমত ঘটনার রিপোর্ট করতে পারে সেই সেরা সংবাদকর্মী। এখানেই সবচাইতে বড় পার্থক্য। একটি সংস্থা গোপনীয়তার উপর নির্ভরশীল পক্ষান্তরে অন্য সংস্থাটি সত্য প্রকাশে সচেষ্ট।

গণমাধ্যমের সাথে নিকটতর সম্পর্ক অপরাধ কমানোর প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে পুলিশের জন্য সহায়ক হতে পারে। গণমাধ্যম পুলিশ বিভাগকে এমনভাবে চিত্রিত করতে পারে যাতে ফুটে উঠবে এই বিভাগ সৎ ও পেশাদার অথবা দুর্নীতি পরায়ণ এবং বিশ্বাস করা যায় না এমন। জনগণ গণমাধ্যম হতে পুলিশ m¤^‡Ü ধারনা লাভ করে। ইতিবাচক কথা পড়লে এবং শুনলে তারা পুলিশের প্রতি অধিক আস্থা এবং বিশ্বাস করতে পারবে। এতে কমিউনিটির সম্পৃক্ততা বাড়বে। জনসাধারণও অপরাধের বিষয়ে রিপোর্ট করতে আধিক উৎসাহী হবে। রাস্তার মোড়ে মাদক ব্যবসায়ীর খবর অথবা এলাকায় হত্যা মামলার সন্দেহভাজনের উপস্থিতির খবর জনগণ পুলিশকে জানাতে থাকবে। কমিউনিটির সাথে পুলিশের সুসম্পর্কের সুফল সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায় না। কিন্তু এটা প্রামানিত যে অসন্তষ্ট নাগরিকরা সহযোগিতা করবে না।

       পুলিশের জন্য সংবাদমাধ্যম অন্য একটি কারণেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পুলিশের কাজের জন্য প্রয়োজন গোপন ও প্রকাশ্য তথ্য। সাংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধিৎসু নেটওয়ার্ক দেশজুড়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং সংগ্রহ করছে এমন অনেক তথ্য যা হয়তো পুলিশের গোচরে আসতো না যদি না সংবাদকর্মীরা তাদের সংবাদ মাধ্যমে তা তুলে না আনতেন। এভাবে সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট পুলিশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন উৎস হিসাবে কাজ করে। অপরদিকে সংবাদকর্মীদের কাজের জন্য পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন তথ্য যা একমাত্র পুলিশ জানে তা যথাসময়ে না জানতে পারলে ভালো রিপোর্ট তৈরী করা সম্ভব হয় না।

ভাল সম্পর্ক তৈরী করতে পুলিশকে প্রথমেই গণমাধ্যম এবং এর দর্শক-পাঠকদের জানাতে হবে। গণমাধ্যমের দ্বারা একটি রিপোর্ট দর্শক-পাঠকের নিকট সঞ্চালিত হয়। বুঝতে হবে গণমাধ্যমে যারা আছেন তারা নৈতিকতার পাশাপাশি লাভের জন্যও কাজ করেন। সংবাদ বিক্রি হয়। সময়োচিত ও নির্ভুল তথ্য দ্রুত বিক্রয় হয়। পুলিশকে বুঝতে হবে যে গণমাধ্যম একটি সংবাদ প্রচার ও বিক্রি করবে যে সংবাদের উৎস যাই হোক না কেন। এবং অধিকাংশ মানুষ গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ বিশ্বাস করে।

আরো জানা প্রয়োজন সংবাদমাধ্যম পুলিশের নিকট কি প্রত্যাশা করে। কাউকে তুষ্ট করা নয় উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের দর্শনটা বোঝা। সংবাদকর্মীরা কয়েকটি জিনিস পুলিশের নিকট প্রত্যাশা করে। একটি হচ্ছে প্রবেশাধিকার, তথ্য প্রকাশের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, সম্পর্ক, সততা এবং পেশাদারিত্ব। আরো কিছু আকাঙ্খা থাকলেও মৌলিক যে নীতিগুলোর উপর সব কেন্দ্রীভুত তা হচ্ছে সময়োচিত, নির্ভুল ও পেশাদার হওয়া। সংবাদমাধ্যমে যারা কাজ করেন তাদের অধিকাংশ পুলিশের ক্যারিয়ার  বা সুনাম ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর এমন নয়। তাদের কাজ জনসাধারণকে তথ্য দেওয়া। পুলিশকে বুঝতে হবে পুলিশ যাদের নিয়ে কাজ করে তারাই সংবাদমাধ্যমের দর্শক-পাঠক।

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যেকোন সম্পর্কের মূল কথা। সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বিভাগ পুলিশ এবং রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান সংবাদমাধ্যম বা প্রেস। পুলিশ-প্রেস এর মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা নিঃসন্দেহে জরুরী। পুলিশের একটি ক্ষুদ্র অংশের অসদাচরণ ও দুর্নীতি গোটা পুলিশ বাহিনীকে কলঙ্কিত করে বটে তা সাধারণীকরণ যেমন ভুল তেমনি গুটিকয়েক সংবাদকর্মীর অসদাচরণ ও হলুদ সংবাদিকতার জন্য সকল সংবাদকর্মীকে অবজ্ঞা করার কোন সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ এবং প্রেসের দূরত্ব অনেক হ্রাস পেয়েছে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উন্নতি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এতে একদিকে পুলিশ যেমন উপকৃত হবে অন্যদিকে সংবাদ মাধ্যমও পুলিশের সহযোগিতা পেলে তাদের দায়িত্ব আরো ভালোভাবে পালন করতে পারবে সর্বোপরি পুলিশ-প্রেসের  সু-সম্পর্কের সুফল পাবে গোটা দেশবাসী।

 

লেখক পরিচিতি: মো: মোজাম্মেল হক পিপিএম

পুলিশ সুপার, বগুড়া