——-

বগুড়ার সাহিত্য আন্দোলন :

সাম্প্রতিক সময়

ইসলাম রফিক    

বাংলাদেশের সাহিত্য আন্দোলনে অনেক আগে থেকেই বগুড়ার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। মরহুম কে এম শমসের আলীর সাথে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্র যোগাযোগের তথ্যও আমরা পাই। রুস্তম আলী কর্ণপুরীর মতো সুফী কবির জন্ম বগুড়াতে। ৫০ দশকের আগে বগুড়ার সাহিত্যাঙ্গনে কারা কাজ করেছেন এক নজরে জানার জন্য তেমন কোন সংকলন বা গ্রন্থ আমরা পাই না। তবে এখন কাজ করতে এসে জানতে বড় লোভ হয় আমাদের সেই সময়ের অগ্রজদের কথা। বগুড়ার সাহিত্য আন্দোলনের ইতিহাস দীর্ঘ ইতিহাস। সেই আন্দোলনের ইতিহাস অগ্রজ কবি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কবি রেজাউল করিম চৌধুরী, কবি বজলুল করিম বাহার, অধ্যাপক মোস্তফা আলীদের কাছ থেকে আমরা জানতে চাই। ষাট, সত্তর ও আশির দশকে বগুড়াতে যারা কাজ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- কবি, স¤পাদক ফারুক সিদ্দিকী,  উপন্যাসিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, কবি-স¤পাদক- প্রকাশক আনওয়ার আহমদ, কবি বজলুল করিম বাহার, কবি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কবি রেজাউল করিম চৌধুরী, কবি কাজী রব, কবি মনোজ দাশগুপ্ত, কবি মুহম্মদ রহমতুল বারী, অধ্যাপক গবেষক প্রবন্ধকার মোস্তফা আলী, কবি-স¤পাদক মনজু রহমান, লুৎফর রহমান, কবি মাহমুদুল হাসান, কবি রায়হান রহমান, কবি জি এম হারুন, কবি শোয়েব শাহরিয়ার, লুৎফর রহমান, শিশু সাহিত্যিক খন্দকার বজলুর রহিম, হাসনা আকরাম, সাজাহান সাকিদার, আবদুল্লাহ ইকবাল, প্রদীপ মিত্র, আজিজার রহমান তাজ, শেখ ফিরোজ আহমেদ, বিদ্যুৎ সরকার, জয়ন্ত দেব, এ্যাড. পলাশ খন্দকার, আব্দুল খালেক, আরিফ রেহমান, ড্যারিন পারভেজ, মাহমুদ হোসেন পিন্টু, ফখরুল আহসান, পিয়াল খন্দকার,

সায়েরা হেলাল, মনসুর রহমান, আব্দুর রশিদ, দেলওয়ারা মিনা, খাদিজা এলমিস, আশিক সরওয়ার, পুট আখতা, বেলাল আখতার, ড. বেলাল হোসেন, জি এম সজল, জেএম রউফ, রাহাত রিটু, মানিক মাহমুদ, ফেরদৌসুর রহমান রিটাহাসনা আকরামসহ অনেকে। এই মূহুর্তে অনেকের নাম মনে পড়ছে না। আলোচ্য বিয়য় তাদেরকে নিয়ে নয়। এই ছোট্ট পরিসরে বগুড়ার ৯০ ও তৎপরবর্তী সময়ের দু’একজন কবির কথা বলতে আমি চেষ্টা করব।

৯০ এর দশক ঃ বগুড়ার সাহিত্য আন্দোলনে ৯০ এর দশক একটি উল্লেখযোগ্য দশক। কিছু উজ্জীবীত টগবগে তরুণ সেই সময় শুধু বগুড়াকে নয় সারা দেশকে মাতিয়ে রেখেছিল। ঘটনাক্রমে সেই সময় কবি মাসুদ খান চাকরীসূত্রে বগুড়ায় বাস করতেন। ফলে একদল তরুণ তার সং¯পর্শে এসে নিজেরা যেমন নিজেকে ঋদ্ধ করেছেন তেমনি বগুড়াকে নিয়ে গেছেন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায়। তাদেরই একজন কবি শিবলী মোকতাদির। আত্মকেন্দ্রিক, প্রচারবিমুখ। দীর্ঘ দিন তিনি ছিলেন লোক চক্ষুর অন্তরালে, নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশে ৯০ দশকের যে ক’জন কবির নাম কবিতার বৈচিত্র্যের কারণে, ছন্দের কারণে কিংবা কবিতা যে কাজ করার একটি মজার মাধ্যম হতে পারে তা আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন কবি শিবলী মোকতাদির। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ধানের রচনা দিলে পত্রে’ (২০০১)। এটি একটি বিকল্প কাব্যগ্রন্থ। নিসর্গ’তে ছাপা হয়েছিল। তার প্রকাশিত ২য় বইটির নাম ‘ছন্দের নান্দনিক পাঠ’ (২০১১)। প্রবন্ধের বই। বইটি প্রকাশের পর তিনি খুব নাম কুড়িয়েছেন। কবিতা লেখার প্রাথমিক পাঠ বলা যায় তার এই বইটিকে। একজন তরুণ লেখক, শুধু তরুণকেই বা বলি কেন সব বয়সের পাঠকের জন্য ছন্দ শেখার এটি একটি অসাধারণ বই। আমার মতে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘কবিতার ক্লাস’ এর চেয়ে কোন অংশেই কম নয় বইটি। তার ৩য় কাব্যগ্রন্থটির নাম ‘নিষিদ্ধ পুষ্টির কোলাহল’(২০১২)।  অসাধারণ একটি কবিতার বই। ৩য় কাব্যগ্রন্থ থেকে একটি কবিতা পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি-

এতো ভুল যাও, তবু সাধ অধ্যাপিকা গ’ড়ে তোলা।

         দূরে দূরে বৃষ্টিভোলা শিশু তুমি;

গোপনীয়তার সূত্রে বেড়ে ওঠা

ধীরে ধীরে গুপ্ত ইতিহাসে, বিগত সালের গন্ধ গায়ে মেখে

যেনো পরিচ্ছেছে অর্থ করো-

গণিতের দোষে পায়রা হারানো মেয়ের অঙ্গে কোন নীরবতা ? 

দেখেছি তখন রচনামূলক প্রশ্নে বাড়ে চঞ্চলতা।

        (মমঃ সাধ জেগে ওঠে)

বায়েজীদ মাহবুব। ৯০ কবি। কবিতার বই না বেরুলেও অনুবাদের দু’টি বই বেরিয়েছে। মতলেবুর রহমান। একজন ছোট গল্পকার। চমৎকার প্রেমের গল্প লিখতেন। তার দুটি গল্পের বই বের হয়েছিল।  লেখালেখির জগৎ থেকে এখন অনেক দূরে থাকেন। শের আফগান শেরা। ৯০ এর কবি। কোন বই প্রকাশিত হয়নি। অকাল প্রয়াত। সুখচরণ দাস বাবু। নিয়মিত লিখতেন স্থানীয় দৈনিকের পাতায়। কোন বই প্রকাশিত হয়নি। অমিত রেজা চৌধুরী ৯০ দশকের আর একজন শক্তিমান কবি।

কবি-স¤পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীর পত্রিকা ‘অর্কেস্টা’  দিয়ে লেখালেখি শুরু। এবং শুরুটা তিনি ভালো করতে পারেননি। প্রথমদিকে তার কবিতা শুধু ‘অর্কেস্টা’য় প্রকাশ হতো এবং প্রকাশিত সেসব লেখা পাঠকদের কাছে টানতে পারেনি। ফলে ‘অর্কেস্টা’  প্রকাশ হলেই অমিত রেজা চৌধুরী’র কবিতার সমালোচনা হতো। কিন্ত অমিত তার দাড় করানো ফরম ভেঙে নতুন ঢঙে কবিতা লিখতে শুরু করলেন। একজন সত্যিকারের কবিকে আমরা আবিস্কার করলাম। এখন পর্যন্ত তার কোন কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। তবে তার লেখার বৈশিষ্ট্য তাকে দিয়েছে নিজেকে পৃথক করার আলাদা শক্তি। শামীম কবীর। ৯০ দশকের কবি। শক্তিশালী এই কবির জন্ম বগুড়ার গাবতলীতে। শামীম কবিরের অকাল মৃত্যুর পর দ্রষ্ঠব্য থেকে প্রকাশিত হয় শামীম কবীরসমগ্র। মাত্র ২৪ বছরের জীবন শামীম কবীরের। তার অকাল প্রয়াণ বগুড়ার সাহিত্য অঙ্গনের জন্য বড় ক্ষতি। আমির খসরু স¦পন এর বেরিয়েছে দুইটি কবিতার বই। ঘুম পর্বতরে হাওয়া, বিবস্ত্র দুপুরের শবগাড়ী।

শুন্য দশক ঃ ৯০ দশকের চেয়েও অনেক বেশী কবি, লেখক শুন্য দশকে বগুড়ায় কাজ করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে মামুন রশীদ, এমরান কবির,  মাহমুদ শাওন, আহমেদ জুয়েল, ঈশান সামী, প্রান্তিক অরণ্য, অনন্ত সুজন, ওয়ায়েজ রেজা, মাহবুব রতন, হাসান সিরাজ, তালাশ তালুকদার অন্যতম।

মামুন রশীদ। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত বই ৫ টি। কবিতার বই ২ টি ‘কালোপাতা ওড়ো সাদা ছাই’ এবং ‘কুশল তোমার বাঞ্ছা করি’। গদ্য একটি। বাংলাদেশের কবিতাঃ সৃজনে অর্জনে। জীবনী গ্রন্থ একটি। ডিরোজিও এবং ২ টি শিশুদের ছোট গল্প। ডাইনী বুড়ি ও অন্যান্য গল্প এবং সবুজ বাড়ীর ভুত। তার স¤পাদনায় প্রকাশিত হতো ‘দ্বিবাচ্য’ নামের একটি ছোট কাগজ। ‘ভুতটুস’  নামের একটি শিশু পত্রিকা মাহমুদ শাওনের সাথে যৌথভাবে স¤পাদনা করেছেন। মামুন রশীদের কবিতা সুখপাঠ্য। সহজে মনকে নাড়া দেয়। গীতলতা কবিতাকে শেষ পর্যন্ত পড়তে বাধ্য করে। কবিতাকে তিনি করেছেন সহজবোধ্য। ফলে পাঠকের কাছে খুব সহজেই তিনি পৌঁছাতে পারেন। উদাহরণ-

সকল ভ্রমণ শেষে বগুড়ায় ফিরে যেতে সাধ হয়।

অসংখ্য মানসীর ভিড়ে তুমি যেমন স্থির দাঁড়িয়ে থাকো

যেনো কোনো পোট্টেট ! নিখুঁত পটুয়ার আঁকা। ডান ভ্রর পাশে

কালো জন্মদাগ। ট্রেন ছেড়ে দেবার শেষ হাসি।

        (সকল ভ্রমণ শেষে)

এমরান কবির। প্রিয় কবিদের একজন। বগুড়া থেকে সারাদেশে শুন্য দশকের কবিদের মধ্যে জায়গা দখল করে নিয়েছেন নিজের যোগ্যতায়। তার একটি মাত্র কবিতার বই বেরিয়েছে। কী সুন্দর মিথ্যাগুলো। অপ্রকাশিত কথাসাহিত্যের একটি পান্ডুলিপি’র জন্য পেয়েছেন জেমকন পুরস্কার। সমানতলে বিচরণ তার লিটল ম্যাগাজিন কিংবা দৈনিকের পাতায়। তার স¤পাদনায় প্রকাশিত হতো ‘থার্ডম্যাগ’ এবং ‘সেন্ট্রাল জেল’।

অনন্ত সুজন। জসিম উদ্দিন সুজন নামে লিখেছেন একসময়। বগুড়ার সাহিত্য আন্দোলনে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। লিটল ম্যাগাজিন এবং দৈনিক সবখানেই লিখছেন। তার প্রকাশিত কবিতার বই ‘পিপাসাপুস্তক’ । তিনি ‘সুবিল’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন স¤পাদনা করেন।

মাহমুদ শাওন। তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল কবি। তার স¤পাদিত পত্রিকা ‘সুতরাং’। কয়েকটি সংখ্যা বেরিয়েছে। পরিচ্ছন্ন, রুচিশীল এবং বাংলাদেশের খ্যাতিমান লেখকদের লেখায় প্রকাশিত পত্রিকাটি নাম কুড়িয়েছে। তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘আততায়ীর চোখ’। তিনি টিভিতে নাটকও লেখেন। ইতোমধ্যে তার লেখা নাটক প্রচারিত হয়েছে।

আহমেদ জুয়েল। শিল্পী ও কবি। চমৎকার ছড়াও লেখেন। তার কোন বই প্রকাশিত হয়নি। 

ওয়ায়েজ রেজা। পাঠককে ঘোরের মধ্যে ফেলেন। কবিতা নিয়ে পাঠক ভাবুক এটা তিনি চান। ফলে আর দশজন কবির মতো সহজকথাটা সহজভাবে বলতে চান না। কিন্ত কবিতা তাকে গ্রাস করতে পারেনি। কবিতা থেকে চলে গেছেন দূরে।

ঈশান সামী। শুন্যের কবি। কবিতা এবং গদ্য দুইটিতে সচল। তার কাব্যগ্রন্থ দুইটি। প্রণয় শরনাথী এবং বুকের বনভূমি। জীবনী গ্রন্থ দুইটি। সুকান্ত ভট্রাচার্য্য ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দের। তিনি অভিজন নামে একটি ছোট কাগজ সম্পাদনা করেন। অভিজন বেরিয়েছে এ পর্যন্ত দুটি সংখ্যা। আনওয়ার আহমদ সম্পাদিত দুটি পত্রিকা রুপম এবং কিছুধ্বতি’র সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেছেন।

প্রান্তিক অরণ্য। শুন্যের আরেক কবি। তার প্রকাশিত বই একটি । অক্ষর ¯্রােতে যারা ভেসে যায়। কাব্যগ্রন্থ। তিনি বিবর নামে একটি ছোটকাগজ সম্পাদনা করেন। বিবর বেরিয়েছে ২ টি সংখ্যা। প্রফুলœ চাকীকে একটি জীবনীগ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন।

মাহবুব রতন। কবি স¤পাদক। তার কোন বই এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। তার স¤পাদনায় বের হয় ‘দেউড়ি’ নামে একটি ছোট কাগজ।

কবীর রানা। ঠিক কোন দশকের বুঝতে পারছি না। শুন্য দশক বিবেচনা করলে, এই দশকের গল্পকারদের মধ্যে তার স্থান প্রথমদিকে। তার গল্প বলার স্বর আলাদা। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত গল্প তাকে গল্পকারদের তালিকায় বিশেষ স্থান দিয়েছে পাঠক। তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘জল আসে মানুষের দীঘিতে’। তিনি ‘নিজকল্পা’ নামে একটি ছোটগল্প বিষয়ক পত্রিকা স¤পাদনা করেন।

আমির খসরু সেলিম মূলত ছড়া নিয়ে কাজ করেন। সেলিমের ‘এইটা ছড়ার বই’ নামে একটি ছড়ার বই ২০১২ একুশে বইমেলায় বেরিয়েছে।

শুন্য দশকের কবিদের মধ্যে আরো যারা লিখছেন-বিধান সাহা, ইন্দ্রজিৎ সরকার। ইন্দ্রজিৎ সরকার ছড়া নিয়ে কাজ করলেও ২০১২ সালে একুশে বইমেলায় এসেছে ‘একা একা একাকার’ নামে একটি সুখপাঠ্য এবং পাঠকনন্দিত উপন্যাস। রফিকুল ইসলাম রিমু, সুকুমার দাস, লিটন সাহাসহ অনেকেই লিখছেন এবং অনেকে লেখা থেকে দূরে সরে গেছেন।

মিতা নূর। একজন উজ্জ্বল প্রতিভাবান কবি। বগুড়ার সাহিত্য অঙ্গনে নারীদের পদচারণা বরাবরই কম। কিন্ত মিতা নূর লিখছেন দু’হাতে। তিনি কবিতা, উপন্যাস এবং ‘চার অপাজিতা’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিনও স¤পাদনা করেন। তার অনেকগুলো বই ইতোমধ্যে রেরিয়েছে।

সুরভীত বেলী। একজন প্রতিভাবান গল্পকার। তার গল্পের হাত অনেক প্রাজ্ঞল। তার ‘কালোবউ’ এবং ‘দহন’ নামে দু’টি ছোটগল্পের বই বেরিয়েছে।

দ্বিতীয় দশকে বগুড়ায় অনেক তরুণ কাজ করছেন-তার মধ্যে প্রথমে যার নাম আসে তিনি হলেন অচিন্ত্য চয়ন। তার কোন বই প্রকাশিত হয়নি। ‘অদ্রি’ নামে একটি ছোট কাগজ স¤পাদনা করেন। লিখছেন নিখিল নওশাদ, রণি বর্মন, মীর মাসুদ পারভেজ, আমিনুল ইসলাম রনজু, শামীমা স্বপ্না, মাকসুদা লাবণী, সাহাব উদ্দিন হিজল, বিজয় এক্কা, মঞ্জুরুল ইমরান, আনিছ রহমান, কুয়াশা, রিপন আহসান ঋতুসহ অনেকেই। পরবর্তীতে তাদের লেখা আমাদের পথ দেখাতে সাহায্য করবে।

বগুড়ার সাহিত্য আন্দোলনে বগুড়া লেখক চক্রের ভূমিকা ঃ বগুড়া লেখক চক্রের প্রতিষ্ঠা ১৯৮৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন কবি শেখ ফিরোজ আহমেদ। সাধারণ স¤পাদক ছিলেন কথাসাহিত্যিক পিয়াল খন্দকার। সাথে ছিলেন পলাশ খন্দকার, শিবলী মোকতাদির, মিঠু হোসেন, মাহমুদ হোসেন পিন্টু, ফখরুল আহসান। এর ধারাবাহিকতায় সভাপতি হয়েছিলেন-শোয়েব শাহরিয়ার, পলাশ খন্দকার, আরিফ রেহমান এবং ইসলাম রফিক। সাধারণ স¤পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন-সৈয়দ মাহবুব হিরু, পান্না করিম, হাবীবুল্লাহ জুয়েল, সুপান্থ মল্লিক, আপলু, জয়ন্ত দেব, আমির খসরু সেলিম। বগুড়া লেখক চক্র তরুণদের সংগঠন। তরুণরাই এর প্রাণ। বগুড়া লেখক চক্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে শত শত ছেলে মেয়ে এর সং¯পর্শে এসেছে। অনেকে লেখালেখির জগতে থেকেছে, অনেকে ঝড়ে পড়েছে। তবে সংগঠনটির ধারাবাহিকতা ধারাবাহিকতার কারণে এই তরুণ প্রজন্ম লেখালেখির জগতে টিকে থেকে বগুড়ার সাহিত্য আন্দোলনকে বেগমান করেছে। তরুদের লেখালেখিতে আগ্রহী করে তুলতে বগুড়া লেখক চক্রের ভূমিকা ব্যাপক। তাছাড়া শুধু সাহিত্য আন্দোলনে কেন প্রগতিশীল সব সাংস্কৃতিক আন্দোলনে বগুড়া  লেখক চক্রের ভূমিকা উল্লেখ করার মতো ছিলো সবসময়। বগুড়াতে বাস করে বগুড়া লেখক চক্রের সং¯পর্শে আসেনি এরকম লেখকের পরিমাণ কম। সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পায় না এমন লেখকদের মূল্যায়িত করে আসছে বগুড়া লেখক চক্র। সুতরাং বগুড়া সাহিত্য আন্দোলনের ইতিহাস আর বগুড়া লেখক চক্র সমার্থক বলে আমি মনে করি।

বগুড়া সাহিত্য আন্দোলনে স্থানীয় দৈনিকের পাতা ঃ বগুড়া থেকে প্রকাশিত স্থানীয় দৈনিকের সাহিত্য পাতাগুলো সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে দীর্ঘ সময় ধরে আমরা দেখিনা। দৈনিক উত্তরবার্তা, দৈনিক করতোয়া, দৈনিক চাঁদনী বাজার, দৈনিক আজ ও আগামীকালসহ সব পত্রিকায় কবিতা, গল্প ছেপে বগুড়া সাহিত্য আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে। উত্তরবার্তা এবং করতোয়া’র সাহিত্য পাতা ছিল ঋদ্ধ। কিন্ত এখন স্থানীয় পত্রিকার ভূমিকা নগন্য। অথচ এখানে তাদের বড় ধরণের ভূমিকা রাখা দরকার ছিল।  দৈনিক উত্তরবার্তা এবং দৈনিক করতোয়ার সাহিত্য পাতায় অনেক লেখকের লেখা মুদ্রিত হয়েছে। কিন্ত সময়ের কারণে উত্তরবার্তার প্রকাশনা বন্ধ হলেও দৈনিক করতোয়ার সাহিত্য পাতা নাই। ১লা জানুয়ারি ২০১৩ হতে দৈনিক করতোয়ার সাহিত্য পাতা প্রকাশের সম্পাদকের ঘোষনার কার্যকারিতার দাবি করছি।

বগুড়া সাহিত্য আন্দোলনে লিটল ম্যাগাজিনের ভূমিকা ঃ বগুড়ার সাহিত্য আন্দোলনে একটি বড় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বগুড়ার লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বগুড়া লিটল ম্যাগাজিনের অন্যতম সুতিকাগার। সেই পূর্ব আমল থেকে এর ধারাবাহিকতা আছে। বেশী দূরের ইতিহাস নয় কবি ফারুক সিদ্দিকী স¤পাদিত ‘বিপ্রতীক’ বাংলাদেশের অন্যতম ধারাবাহিক দীর্ঘস্থায়ী লিটল ম্যাগাজিন। সরকার আশরাফ স¤পাদিত ‘নিসর্গ’ দীর্ঘ সময় বগুড়া থেকে প্রকাশিত হয়েছে। কামরুল হুদা পথিক স¤পাদিত ‘দ্রষ্ঠব্য’ বগুড়া থেকে প্রকাশিত আর একটি লিটল ম্যাগাজিন। মাহমুদ হোসেন পিন্টু স¤পাদিত ‘প্রতিকাগজ’ নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। মাইনুক ফারুক স¤পাদিত ‘ডামি এডিশন’ একটি সংখ্যা বেরুনোর পর আর প্রকাশিত হয়নি। আজিজার রহমান তাজ স¤পাদিত ‘মল্লিকা’, ইসলাম রফিক স¤পাদিত ‘দোআঁশ’, জয়ন্ত দেব স¤পাদিত ‘দ্যুতি’, অচিন্ত্য চয়ন স¤পাদিত ‘অদ্রি’, বগুড়া লেখক চক্রের মুখপত্র ‘ঈক্ষণ’, সাকিল আহম্মেদ স¤পাদিত ‘অতএব আমরা’, মীর মাসুদ পারভেজ স¤পাদিত ‘বাঙালি’, মামুন রশীদ স¤পাদিত ‘দ্বিবাচ্য’, অনন্ত সুজন স¤পাদিত ‘সুবিল’, এমরান কবির স¤পাদিত ‘থার্ড ম্যাগ’, মাহমুদ শাওন স¤পাদিত ‘সুতরাং’সহ বগুড়া থেকে এরকম অনেক ছোট কাগজ বের হয়। সবগুলোর নাম এই মূহুর্তে মনে পড়ছে না। এসব লিটল ম্যাগাজিনের কারণে তরুণরা প্রচুর লেখার সুযোগ পাচেছ এবং তারা তৈরী হচ্ছে। ফলে লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্য আন্দোলনে বগুড়াতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। (এই লেখাটি পরিপূর্ণ নয়, আরও গবেষনার দাবী রাখে। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য দুঃখিত)

 

লেখকঃ ইসলাম রফিক

কবি, সম্পাদক- দোআঁশ

সভাপতি, বগুড়া লেখক চক্র